নাথবতী অনাথবৎ- একটি বর্ণনাধর্মী নাট্য

শাঁওলি মিত্র বাংলা থিয়েটার ও সিনেমা জগতের এক প্রখ্যাত অভিনেত্রী। তিনি ঋত্বিক ঘটকের যুক্তি তক্কো আর গপ্পো চলচ্চিত্রে বঙ্গবালা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তাঁর পারিবারিক পরিচয় হল তিনি প্রখ্যাত নাট্যকার শম্ভু মিত্র ও তৃপ্তি মিত্রের কন্যা ,যাদের সুবাদে অনেক ছোটবেলা থেকেই থিয়েটারের সঙ্গে তার জীবনযাপন।

 নানান সাক্ষাতকার থেকে জানা যায় যে ছেলেবেলায় তিনি খুব ভুগতেন তাই পড়াশোনার বিশেষ চাপ তাকে দেওয়া হতনা। ২০১১ সালে তিনি রবীন্দ্র সার্ধশত জন্মবর্ষ উদ্‌যাপন সমিতির চেয়ারপার্সন হিসাবে তাকে নির্বাচন করা হয়। ছোটবেলা থেকেই নাট্যচর্চা করেছেন শাঁওলি মিত্র। বাড়িতেই থিয়েটারের মহড়া চলতো। কখনও কখনও বহুরূপী’র শোয়ের সময় উইংসের পাশ থেকে নাটক দেখতেন শাঁওলী।

কমলা গার্লস হাইস্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় বহুরূপী নাট্যদলের প্রযোজনায় ‘ছেঁড়া তার’ নাটকে অভিনয় করেন তিনি। তৃপ্তি মিত্রের পরিচালনায় ‘কিংবদন্তী’, হিমাংশু চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালনায় বাদল সরকারের লেখা ‘ত্রিংশ শতাব্দী’ নাটকে মিসেস ইথার্নির চরিত্রে কিংবা পরে শম্ভু মিত্রের পরিচালনায় রবীন্দ্রনাথের ‘রাজা’ নাটকে সুরঙ্গমার চরিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। ছোটবেলায় অভিনয় করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা অবলম্বনে তৈরি ‘ডাকঘর’  নাটকে। অমলের চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসাও পান। পরবর্তীতে বাংলা নাট্য জগতের বিশিষ্ট নাম হয়ে ওঠেন তিনি, নিজের দলও গড়ে তোলেন।তাঁর তৈরি নাট্যদলের নাম ‘পঞ্চম বৈদিক’।

  • ১৯৮৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে মঞ্চে এল নাথবতী অনাথবৎ। একক নাটক। মহাভারতের এক-একটি চরিত্র, এক-এক রকম স্বরক্ষেপণ, ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গভঙ্গি , এক-এক রকম পদক্ষেপে মূর্ত হয়ে উঠতে লাগলেন শাঁওলী মিত্র। তাঁর মঞ্চে আয়ত্ত দক্ষতা সমগ্র দর্শক মহলকে বিমুগ্ধ করে দিয়েছিল, যেন সসাগরা পৃথিবীটাকে অযুত প্রশ্নেবিদ্ধ করছেন। এই নাটকে আমরা এক নতুন নাট্য গড়ন শুধু নয়,নাট্যভাবনার সম্ভাবনা চিহ্নিত করতে পারি। এক প্রতাবাদী নারীর সন্ধান পেলাম আমরা। তাই তিনি মঞ্চে কখনো যুধিষ্ঠির কখনো বা দ্রৌপদী হয়ে  স্বাভাবিক স্বতস্বূর্ততায় অভিনয় করে গেছেন। বিষয়ের সঙ্গে আঙ্গিকের এই পরীক্ষা সমগ্র বাংলা নাট্য দর্শককে চমকে দিয়েছে।  বাঁ হাতের তর্জনী ছুড়ে বলেন, ‘যুধিষ্ঠির’ বললেন এই কথা। ধম্মের  পুত্তুর যুধিষ্ঠির তখন আর কিছু বিচার করলেন না! গোটা সমাজের কাছে মহাভারতের এক নবরূপ অঙ্কন করেছেন। রাজসভায় যখন ভীষ্ম-দ্রোণ-কৃপ-বিদুররা চুপ করে বসে আছেন তখন কথক শাঁওলী যেন খেপে উঠলেন,
  • ‘ বাবুমশায়রা, এইরকম একটা কাল আসে পৃথিবীতে, যখন এইসব গুণীজনরা সব চুপ করে থাকে, আর যে অত্যাচারিত হয়, সে হয়েই যায়, হয়েই যায়, হয়েই যায়!’
  • সেই নির্মাণ দেখতে দেখতে পাঠক নিজের অজান্তেই পারি দেয় নাট্যকারের ভাবনার জগতে। এই নাট্যের মাধ্যমে শাঁওলী এক নতুন পথের সন্ধানে যাত্রা শুরু করলেন। এই অনুসন্ধান তার নিজেরি অন্তরে। দেশীয় যে নাট্য রীতির পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন তার বাবা নাট্যকার শম্ভু মিত্র দেখেছিলেন,তার মূল সুরটি যেন স্পর্শ করেছিল তার কন্যার অন্তরে। তাই যে সন্ধান তার বাবা  , চাঁদ বণিক মাঝ রাস্তায় ছেড়ে দিয়ে পথের অনুসন্ধানে পথ হারিয়েছিলেন,তাকেই যেন পুনরুদ্ধরে  মগ্ন হয়ে উঠলেন নাট্যকার। যুগ যুগ ধরে চলে আসা পুরুষতান্ত্রিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে এই পথ চলা। সেই জার্নিতে কখনও তাঁর সত্তার ভিতরে নৈঃশব্দ হাঁটু মুড়ে বসে থাকে,  কখনও এক অপার বিচ্ছিন্নতা। নিজেরই মুদ্রাদোষে কখনও হয়ে যান তিনি একা। তবু যাত্রা বন্ধ হয় নি।একার যে কী প্রচণ্ড বল হতে পারে, তা বোঝা যাচ্ছিল দিনে দিনে। নাটককে  আযূধ করে তিনি এগোতে থাকলেন। ১৯৯০ নিয়ে এলেন কথা অমৃতসমান। আধার সেই মহাভারত। তৈরি হচ্ছে প্রতিমহাভারত। একক অভিনয়।  
  • এই প্রবন্ধের মূল উদ্দেশ্য হল বিষয়ের চেয়েও নাট্য আঙ্গিক নিয়ে তিনি যে নতুন পথের সন্ধান দিলেন তার পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা। নাট্য সমালোচক সেলিম আল দীন এই নাট্য দেখে বর্ণনাত্মক অভিনয় রীতি বোঝাতে বলেছেন
  • “ বাংলা কথকতা ও পাঁচালি ধারায় সৃষ্ট অভিনয় রীতি। এতে অভিনেতা নাট্যস্থিত বর্ণনা সংলাপের রীতিতে উপস্থাপনা করে। এ সম্পর্কে প্রদত্ত যুক্তি এই যে, বিশেষ চরিত্রের মুখের কথাই যে সংলাপ তা নয় বরং মঞ্চে চরিত্র বা উপস্থাপনাকারী যা বলবে তাই সংলাপ। সংলাপ ও বর্ণনার দ্বৈত গড়ন অদ্বৈতরূপে মঞ্চে উপস্থাপিত হয় বলে বর্ণনাত্মক অভিনয় রীতি দ্বৈতাদ্বৈতাবাদী শিল্পতত্বের পরিপোষক নাট্যদর্শন রূপে বিবেচ্য।”
  • বিশ্বনাট্য ইতিহাসে বর্ণনাত্মক নাট্য ধারা আধুনিক কালের নাট্য নন্দন্তত্বের একটি পরিভাষা রূপে উদ্ভূত হয়েছে। ইংরাজী ন্যারেটিভ শব্দটির সঙ্গে একে অভিন্ন মনে করা যেতে পারে তবে গভীর পর্যবেক্ষণে এই দুইয়ের পার্থক্য অনুধাবন করা সম্ভব। ইংরাজী ন্যারেটিভ শব্দের অর্থ হল বর্ণনাত্মক, ঘটনার বিবরণ মূলক বা কোন ঘটনার ধারাবাহিক বিবরণ। অন্যদিকে বাংলা বর্ণনাত্মক শব্দটির অর্থ হল এমন একটি শিল্পবস্তুর অভিধা যা একি সঙ্গে শ্রবণ সুখকর শিল্পিত বিবরণ, নাট্যগুণ সম্পন্ন সংলাপ,বিচিত্র মুদ্রার নৃত্য এবং বিভিন্ন রাগ রাগিনীর আশ্রয়ে রচিত সঙ্গীত সম্পন্ন আদি-মধ্য অন্ত্য সমন্বিত একটি শিল্পরূপ।এদিক থেকে বিচার করলে বলা যায় যে বাংলা বর্ণনাত্মক রীতির নাট্যের সঙ্গে ইউরোপীয় ওড এবং ব্যালাডের সমগোত্রীয়।
  • নাট্যকার শাঁওলী মিত্র তার পারিবারিক শিক্ষা ও নাট্যচর্চার ফলে এই সমস্যাকে অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। তাঁর আগেই তার বাবা শম্ভুমিত্র চাঁদ বণিকের পালা নাটকে এই ইউরোপীয় নাট্য ধারণা থেকে সরে এসে দেশীও নাট্যধারাকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। বিদেশি শিল্প সাহিত্যের অনুসরণ থেকে সরে এসে দেশীয় চিন্তা চেতন নিয়ে নাট্যসম্ভাবনাকে আবিষ্কার করাই ছিল তখন নাট্যকারের প্রধান বিচার্য বিষয়। এই চেতনার স্বীকৃতি স্বরূপ আমরা নাথবতী অনাথবৎ  নাটকটিকে বিচার করতে পারি।
  • বাংলা নাটককে তিনি ঔপনিবেশিকতার কবল থেকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন । বাংলা নাট্যমঞ্চে অনুবাদনির্ভর পশ্চিম অনুকৃত নাট্যচর্চার যে রীতি গড়ে ওঠেছিল সেখানে তিনি প্রতিস্থাপন করেন বাংলা ভাষার মৌলিক নাটককে।প্রসেনিয়াম নাট্য মঞ্চ ধারণার বিপরীতে তিনি লৌকিক জীবনের সংগ্রামময় ইতিহাসকে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন তার নাটকে। শুধুমাত্র বিষয়গত নতুনত্ব নয়, আঙ্গিকগত নতুনত্ব , তার নাটক  এক দেশিয় মঞ্চ ধারণাকে উপস্থাপন করে ।  তার নাটকের ভাষা বাংলা। বাঙালির আচার আচরণ, দৈনন্দিন জীবনযাত্রা তার ঐতিহাসিক সংগ্রাম-সিদ্ধি, অর্থনৈতিক অবস্থা, উৎপাদন ও বন্টন ব্যবস্থা, পুরান রূপকথা, সংস্কার বিশ্বাস, কৃত্যাদি, প্রথা-উৎসব,  খাদ্যাভ্যাস, সামাজিক রীতি, নৈতিকতা, উৎসব-ক্রীড়াদি ইত্যাদি বিষয়কেন্দ্রিক পরিবেশনযোগ্য রচনা বাংলা নাটক এবং একই সঙ্গে তা  বাঙালিরও নাটক। এই বিষয় বৈচিত্র্য ও মৌলিকতাই শাঁওলী মিত্রের স্বাতন্ত্র্য।  
  • তবলাতরঙ্গ বেজে উঠছে। বাজছে মন্দিরা, মৃদঙ্গ। মঞ্চে সার বেঁধে বসা জুড়ির দলের দিকে মুখটি ফিরে একটা কালো কাঠের জলচৌকির ওপরে দুলছে একটা লম্বা বেণী। একটি আলতারাঙা পায়ের নূপুর তাল রাখছে ছন্দে। জুড়ির দল গান ধরেছে, ‘‘কিছু কথা বলতে চায় ওরে মন…।’’
  • গানের শেষে কথক ঠাকরুণ পেন্নাম করে বলে উঠলেন ‘‘এক অভাগিনী মেয়ের কথা! রানি, কিন্তু রানি নয়!’’
  • ‘নাথবতী অনাথবৎ’- এই বঙ্গের ইতিহাসে পেশাদার রঙ্গালয়ের ইতিহাসে এই নাটক সম্পূর্ণ এক নবদিগন্তের সন্ধান দিয়েছিল যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নাট্য কর্মীদের কাছে পথপ্রদর্শক রূপে চিহ্নিত করা যায়।
  • মঞ্চে সার বেঁধে বসা জুড়ির দলের দিকে মুখটি ফিরে একটা কালো কাঠের জলচৌকির ওপরে দুলছে একটা লম্বা বেণী। মঞ্চ সজ্জায় যেমন দেখা যায় প্রসেনিয়াম মঞ্চ ধারণা থেকে বেড়িয়ে আসার প্রচেষ্টা তেমনি রবীন্দ্রনাথের রঙ্গমঞ্চ প্রবন্ধটিরও গভীর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
  • তাই তিনি প্রসেনিয়াম নাট্য মঞ্চের ধারণা থেকে সরে এসে নাটকটিকে প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধে সাজিয়েছেন। প্রথমেই জানিয়ে দিয়েছেন যে নাটকটি ‘ কথকতার ভঙ্গিতে ’লেখা হয়েছে। জুড়ির গান দিয়ে আখ্যান বর্ণনা শুরু। ঠিক যেন চাঁদ বণিকের পালার অনুসরণে রচিত এই অংশটি।
  • এরপর শুরু হয় কাহিনি বর্ণনার পালা। কখনো দ্রৌপদী কখনো বা দুর্যোধন, যেমন স্বাভাবিক তার কন্ঠস্বর তেমনি দৃপ্ত তার প্রতিবাদ। প্রত্যেকটি অন্যায় ঘটনা বর্ণনার সময় তীক্ষ্ণ প্রতিবাদে ক্ষত বিক্ষত করে তুলেছেন আজন্ম লালিত চিন্তা ভাবনাকে। পুরাণে বর্ণিত যে কাহিনিকে আমরা স্বাভাবিক অভ্যাসে দীর্ঘ কাল ধরে মেনে নিয়েছি , তাকেই প্রশ্ন করেছেন নাট্যকার। যে ভাবনা নিয়ে তার নাটক লেখা সেই তীব্র প্রতিবাদই সোচ্চার হয়েছে তার অভিনয়ের মাধ্যমে।  
  • গঠন গত ভাবনায় প্রশ্ন করা যায় যে এই বিষয়টিকে উপস্থাপন করার জন্য এই বর্ণনামূলক নাট্যরীতিকে গ্রহণ করার সার্থকতা কোথায়? যেহেতু এই কাহিনি মধ্যযুগের ইতিহাসের অংশ তাই কি এই আঙ্গিক! গভীরভাবে অনুধাবন করলে বোঝা যায় যে শুধুমাত্র এইটুকু বাহ্যিক কারণে এই আঙ্গিককে তিনি বরণ করেন নি। একজন নারী, অর্থাৎ শুধু যদি তিনি দ্রোপদীর ভাষ্যে সমগ্র কাহিনিটি বর্ণনা করতেন তাহলে এটিকে এক নারীর প্রতিবাদ হিসাবে চিহ্নিত করা  হত।
  • সমগ্র পুরুষতান্ত্রিক সমাজের যে অন্যায় অত্যাচারের কাহিনি এখানে তিনি বর্ণনা করেছেন তা কোন একটি চরিত্রের দৃষ্টিতে সীমাবদ্ধ রাখলে এই নাট্যের সম্ভাবনা সমূলে নষ্ট হত। তাই নাট্যকার কোন একক চরিত্রকে বেছে নেন নি, একজন কথকের ভাষ্যে সমগ্র নাট্যটিকে উপস্থাপন করেছেন।
  • এরপর কথক দ্রৌপদীর ভাষ্যে সমগ্র মহাভারতের নবরূপায়ণ ঘটালেন। পঞ্চ পান্ডবের দুর্ভোগ ও দ্রোপদীর জীবন যন্ত্রণার কেন্দ্রে যে যুধিষ্ঠির ,যাকে সমগ্র মানব কূলের কাছে মহাপন্ডিত ও প্রাজ্ঞ হিসাবে ভূষিত করা হয় যুগ যুগ ধরে,একথা কথক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন। চিরাচরিত মহাভারতের কাহিনি ব্যাখ্যা নয়, মহাভারতের নতুন পাঠ তুলে ধরাই এই নাট্যের মুখ্য উদ্দেশ্য।
  • তাই প্রথাগত মঞ্চ ধারণা নয়,এই নতুন পাঠকে ধারণ করার জন্য প্রয়োজন দেশীয় মঞ্চ ধারণার কাছে ফিরে যাওয়া। তাই প্রসেনিয়াম মঞ্চ,চরিত্রের মুখে সংলাপ,দৃশ্যের আতিশয্যকে ত্যাগ করে নাট্যকার গঠন করলেন বর্ণনাধর্মী পালাগানের আসর। এখানে সামনে উপস্থিত দর্শকদের কথক শ্রোতা রূপে সম্বোধন করছেন এবং নিজস্ব পাঠকে দর্শকের মননের সঙ্গে মিলিয়ে নিয়েছেন।
  • দর্শকের মধ্যে জাগিয়ে তুলতে চাইছেন সেই সব আদি প্রশ্ন যা প্রাত্যহিকতার অভ্যাসে চাপা পরে গেছে। সমাজ পরিবর্তন তো শুধু মাত্র যুদ্ধ করে হয় না,মানুষ যখন নিজের চারপাশকে আরও ভালোভাবে তলিয়ে বুঝতে পারবে,প্রশ্ন করবে,অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে তাদের চেতনা তখনি প্রকৃত রূপে মানব সভ্যতা অন্ধকারের থেকে আলোর পথের দিশা খুঁজে পাবে। এই কাজে নাট্যকার শাঁওলী মিত্র যে সম্পুর্ণ রূপে সফল তা এই নাটকটির সাফল্য ও দর্শকমহলে জনপ্রিয়তা থেকেই সুস্পষ্ট।

Why should we learn Nanoscience? Impact to our Society

In 1959, Professor Richard Feynman in a public lecturer at California Institute of Technology shared his thought about the strange behaviour of small particles. His lecturer was entitles as: “There’s plenty of room at the bottom”. Professor Feynman actually gave us the idea to enter into a new field of Physics, today it is known as Nanoscience. Professor Feynman in his lecture also talked about “How do we write small”, “Information on a small scale” and the importance of developing better electron microscope. All his novel ideas have created breakthroughs in the field of nanoscience.  

Nanoscience enables us to study the properties of system at nanoscale and Nanotecgnology enables us to organize and manipulate the properties and behaviour of a system in atomic or molecular level. Nanoscience has wide prospect and finds application in various different fields. Here I describes application of nanoscience and the scope and prospect in this field.   

What is nanoparticle?  

A particle has dimension of nanometer size. The question is how small one nonometer is. The 1 nm (1 nm = 10-9 meter) is one billionth of a meter or equivalent to 10 Å (1 Å = 10-8 cm). Nanosized particles of a substance exhibit different properties and behaviours than larger particles of the same substance. Carbon is very common also very abundant material in nature. We are aware of its two different forms; graphite and diamond. During 1985 to 2004, scientists have discovered three new allotropes of carbon. They are known as fullerene (known as Buckminsterfullerene: C60), carbon nanotube and graphene.     

Fullerene: In 1985 a group of scientists lead by Prof. Harry Kroto had discovered a small structure in which 60 Carbon atoms are joined together in one unit. The structure is quite similar like a football. In this fullerene structure we could see hexagon + pentagon pattern. Prof. Kroto and his collaborators were awarded the 1996 Nobel Prize in Chemistry. With the advancement of technology various different structures like fullerenes with larger number of carbon atoms (C70, C76, C80, etc.) were synthesized.   

Graphene: Graphene is 2-dimensional nano-structure. It is a 2D sheet of single layered carbon atoms arranged in hexagonal lattice. Graphite is actually made of millions of layers of graphene. In 2004 at the University of Manchester, Andre Geim and K. Novoselov produce graphene from graphite using a scotch tape in laboratory. Professor Geim and his co-workers were awarded Nobel Prize for Physics in 2010. Graphene is the most useful and thinnest 2D nanomaterial due to its extremely high electrical conductivity, transparency and tensile strength.     

Carbon nanotube (CNT): CNTs are cylindrical nanostructure consists of one or more layer of graphene sheet. Diameter of single-wall CNT (SWCNT) and multi-wall CNTs (MWCNT) may vary from 0.8 to 2 nm and 5 to 20 nm respectively. A single-wall CNTs can be realize as cut-outs from a 2D hexagonal graphene sheet rolled up along one of the Bravais lattice vectors and thereby form a hollow cylinder. CNTs exhibit remarkable electrical conductivity. Single-wall CNTs are metallic but multi-wall CNTs are having small band-gap. CNTs exhibit exceptionally high tensile strength and thermal conductivity. These properties of CNT make them valuable and are used in electronics, optics, biological and biomedical research. 

Exciting Properties of Nanoparticles

Super surface activity: Nanoparticles exhibit strong reactivity due to much higher surface to volume ratio. With decrease of particle size the number of particles at the surface increases. This leads to a significant energy contribution to the system from the unsatisfied bonds of the surface atoms. Hence, the surface becomes extremely ‘active’ due to the high available surface energy. This effect finds applications in: adsorption of toxic gases, catalysis, etc.

Superparamagnetism: A ferromagnetic particle behaves like a paramagnet when particle size is made very small. Ferromagnetic solid consists of small magnetic domains and spins are aligned inside the domain. If particle size is reduced to very small size (typically < 20 nm) the entire particle becomes a single domain. With further reduction in particle size (< 5 nm) ferromagnetic property is lost. Therefore in the absence of external field the particle behaves like a paramagnet and in the presence of a field spins are getting aligned leading to a large magnetization, also known as super-paramagnetic behavior.

Super-hydrophobicity: If surfaces are highly hydrophobic (super-hydrophobic) then they are difficult to wet. The contact angle of water droplet may exceed 150o on a super-hydrophobic surface. Surface roughness is increased at nano-scale therefore actual contact area of the surface decreases and hence the surface becomes non-wetting. The super-hydrophobic coating is used in vehicle windshields and maritime industry.

Why nano-scale become so Important?

Nanoparticles exhibits some unique mechanical, optical, magnetic, and electrical properties that are distinctly different from that of bulk materials. It was found that nanoparticles exhibits enhanced activity when subjected to similar applications. A few are discussed below.

  • Nano-crystals have lower melting point and has reduced lattice constant (difference can be as large as 1000oC).
  • Due to high surface to volume ratio nano-crystals are used for catalysis, drug delivery and energy storage.
  • Semiconductor nanocrystals have larger band gap than that of bulk semiconductors.
  • Ferroelectric and ferromagnetic materials lost their ferroelectricity and ferromagnetic property at the nano scale.
  • A system composed of nano-particles can conducts electricity better.

Applications:

Use of nanotechnology includes sports equipment, vehicle parts, storage of power in batteries, cosmetics, drug delivery and many more. Scientists are working with nonomaterials with a hoped that nanoscience will control our health-care system in future. We all use sunscreens; it contains ZnO or TiO2 nano powder to avert sunburns. Nano-science is combined with bio-science naturally because in general the bio-molecules that we are dealing with (e.g; DNA, RNA, proteins, enzymes) are all within the nanoscale range from 1-100 nm. In November 2012, Scientists at NIST (American National Institute of Standard and Technology) demonstrate that SW-CNTs can protect DNA molecules from oxidation.  Here I illustrate some more applications of CNTs in bio-medical research.

  • CNTs are bio-compatible and having low-level of toxicity.
  • CNTs are elastic cylindrical tubes with both ends open and therefore can be used in intracellular delivery.
  • Due to high tensile strength, CNTs filled with calcium and grouped in the structure of bone can act as a bone substitute.
  • For biomedical application, functionalization is required and it is possible for CNTs. Functionalization may improve biocompatibility and also reduce the toxicity level.

CNTs can enter into cells by binding their tips to the cell membrane receptors. This actually helps in drug delivery. 

Computer Aided Diagnosis: A Spectacular Achievement in Health Care

Artificial Intelligence has the great impact in health care. It can assist doctors to detect or diagnosis a disease at early stages. In developing countries like India has very low patient and doctor ratio. As a consequence, the performance of the manual detection of the disease often degrades i.e., doctors may overlook the early sign of the disease and patients can suffer death. In order to decrease the mortality rate of several diseases, Computer aided detection or diagnosis may be a potential solution.  It is a computer-based program which analyse different radiological image modalities and predict the presence of the disease. Consequently, it can be said that these types of technology can provide some treatment facility to the patients where minimum treatment facility is available. In early 1980’s, based on the symptoms of the patient researchers have proposed several algorithms to predict the presence of the disease. However, these methodologies were not acceptable to the medical community. In 2005, International association of Computer Aided Diagnosis established and they first approved the prediction of breast cancer from mammography in clinical practice. After that several researchers have proposed several CAD methodologies for early diagnosis. They give emphasis mostly on early detection of different types of cancer from different organs. The basic challenges of implementing such system are present of sufficient amount of annotated patient data. The collection of patient data from different hospital is a tedious job.

However, several researchers have proposed different medical image datasets by collaborating with different hospitals. In order to predict lung cancer at early stages, LIDC-IRDI dataset is introduced which consisted of 1081 Lung CT images and these data are taken from 7 different hospitals of United States of America. This dataset has been released in 2008 and the CT scans are taken from a 32 slice CT scanner i.e., the images are taken from the old CT scanner machine. In present context, most of the hospitals use a 64 slice CT scanner machines and the implemented models are not provided satisfactory results if researchers have considered this dataset. Moreover, this dataset only provides the information about the presence of the abnormalities but not confirm the presence of cancer in it. These necessitates a new benchmarking dataset that consists of the CT scan of a 64 slice CT scanner and also have the information about the disease. The researchers of University of Calcutta have introduced a new public dataset “Swash” for the lung cancer researchers which consisted of 289 CT scan machines and all the data are biopsy proven. Like lung cancer, researchers have also introduced BRAST datasets for Brain tumor detection, MIAS dataset for breast cancer detection and diagnosis from digital mammography, DRIVE dataset and DRISTI dataset for diabetic retinopathy detection from FUNDUS images.  These aforementioned datasets have been used for implementing several CAD methodologies for early detection of the disease by considering the different algorithms of machine learning (ML) and deep learning. The researchers of United states of America, have designed a ML-based methodology that is capable of detecting breast lump from digital mammography, after that the computer-based technique is also capable of grading the stage of cancer. The researchers of Redbound University and University of Calcutta proposed a fully automated software tool that is capable of predicting lung cancer from Computed tomography images. Instead of having higher accuracy in brain tumor detection from MRI images, the Machine Intelligence Unit of Indian Statistical Institute have proposed a novel methodology that can assist clinicians about the post-surgery survival of brain tumor patients. Apart from cancer detection, the researchers also tried to propose several CAD methodologies of other diseases. At the middle of the pandemic era, researchers have proposed several methodologies that are capable of detecting COVID-19, after analysing the digital chest X-ray and thoracic CT images. The published literature also reveals that their exist several ML and DL-based algorithms that are capable of detecting Alzheimer, Parkinson’s, Strokes, fractures, cysts from different modalities of medical images. Furthermore, the researchers are also capable of measuring the changes of abnormalities after several drugs are induced on the patients. However, the accuracy of these methods is quite satisfactory, but these models are implemented by considering several data which are taken from old scanning technology. As the precision of the scanning technology has been improved, the characteristics of the data has been changed and this requires advancement in existing algorithms or implementation of new model that can provide higher accuracy and these methodologies can use in clinical practice.